ট্রাম্পের শুল্কের হুমকির জবাবে ইইউর ‘সম্মানজনক সমঝোতার’ ডাক

জার্মান অর্থমন্ত্রী ক্যাথারিনা রাইখ বলেন, ‘ইউরোপীয় কমিশনের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো— এবং সে লক্ষ্যেই আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা চালানো দরকার।‘

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের হুমকির সুরে কথা বলেছেন। তিনি ইউরোপ থেকে আমদানি করা সব পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্পের এ ঘোষণার জবাবে ইইউ জানিয়েছে, হুমকি নয়— সম্মান ও ভারসাম্যের ভিত্তিতে একটি কার্যকর সমঝোতা চায় তারা। খবর বিবিসি।

ইইউর বাণিজ্য কমিশনার মারোশ সেফচোভিচ মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার ও বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে এক ফোনালাপের পর বলেন, ‘আমরা এমন একটি চুক্তির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যা উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে। ইইউ-আমেরিকা বাণিজ্য অনন্য, এবং এটিকে হুমকি নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা আমাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রস্তুত।

এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প তার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, ‘ইইউর সঙ্গে আমাদের আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না।‘ এরপর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি কোনো চুক্তি খুঁজছি না। চুক্তি তো আমরা ঠিক করেই ফেলেছি।‘ তবে সঙ্গে যোগ করেন, ‘ইউরোপীয় কোনো কোম্পানি যদি যুক্তরাষ্ট্রে বড় বিনিয়োগ করে, তাহলে হয়তো শুল্ক আরোপ পিছিয়ে দেয়া হতে পারে।‘

ট্রাম্প আরো বলেন, ১ জুন থেকে তিনি শুল্ক কার্যকর করবেন। তবে আমেরিকায় উৎপাদিত পণ্যের ওপর কোনো শুল্ক বসানো হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপীয় নেতারা। আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মার্টিন বলেন, ‘এই পথে যাওয়ার দরকার নেই। আলোচনাই একমাত্র স্থায়ী ও কার্যকর পথ।‘

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ স্যাঁ-মার্টিন বলেন, ‘আমরা উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে আছি, তবে প্রয়োজন হলে জবাব দিতেও প্রস্তুত।‘

জার্মান অর্থমন্ত্রী ক্যাথারিনা রাইখ বলেন, ‘ইউরোপীয় কমিশনের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো— এবং সে লক্ষ্যেই আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা চালানো দরকার।‘

নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কোফ বলেন, ‘আমরা ইউরোপীয় কৌশলের পক্ষে। অতীতেও দেখেছি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সময় শুল্ক কখনো বাড়ে, কখনো কমে।‘

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির জেরে মার্কিন ও ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শুক্রবার মার্কিন স্টক সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ প্রায় দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আর জার্মানির ড্যাক্স ও ফ্রান্সের ক্যাক ৪০ সূচক ১ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি পড়ে গেছে।

আরও